Braking News

6/recent/ticker-posts

চাকরিতে প্রবেশের বয়স নিয়ে বৈষম্য



সরকারি চাকরির প্রত্যাশা থাকে বেশিরভাগ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থার নানা জটিলতায় আটকে অনেক ক্ষেত্রে চাকরিতে আবেদনের আগেই বয়সের যোগ্যতা ফুরিয়ে যাচ্ছে বেশিরভাগ চাকরি প্রার্থীর। সর্বশেষ চাকরিতে আবেদনের বয়স ২৮ থেকে ৩০ বছর করা হয়েছে। কিন্তু সেশনজট, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা কারণে অনেক ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়সে চাকরিতে আবেদনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব হয় না। বিশেষত প্রথম শ্রেণির (পিএসসি মাধ্যমে) পদগুলোর ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি।

ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সরকারি চিকিত্সকদের চাকরিতে আবেদন করার বয়স ৩২, প্রতিবন্ধীদের ৩২ এবং সেবাকর্মীদের (নার্স) জন্য বয়স ৩৬ বছর করা হয়েছে। কিন্তু সর্বজনীনভাবে এ বয়স এখনো ৩০ বছর। এটি বৈষম্যমূলক বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের সব নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার কথা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ থেকে ৪০ বছর রয়েছে। ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে চাকরিতে প্রবেশের কোন বয়সসীমাও নেই কিছু দেশে। ইতিমধ্যে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। কর্মসক্ষমতার বয়সও তাই বেড়েছে। সেসব বিবেচনায় নিয়েই সরকার চাকরি থেকে অবসরের বয়সও বাড়িয়েছে। আর অবসরের বয়স বাড়ানোতে দুই বছর নিয়োগও সংকুচিত থাকে। কমবেশি তিন বছর শিক্ষাজটে আর বয়সবৃদ্ধির ফাঁকে দুই বছর- এই পাঁচ বছরতো শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এমনিতেই ঝরে যাচ্ছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের আগেই বয়স শেষ হয়ে যায় নতুবা শেষপ্রান্তে থাকে। ফলে একাধিকবার প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ থাকে না। অথচ মোট শিক্ষার্থীর ৮৭ ভাগ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন। ইউজিসির তথ্যমতে জাতীয় ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৩৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমবেশি ২৯ লাখ। এরমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ২১ লাখের বেশি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাড়ে তিন লাখের মতো।

আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষার প্রতিটি স্তরে কমপক্ষে তিন বছরের জট রয়েছে। একইভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রেও তিন বছরের একটি ব্যবধান থাকে-যার সঙ্গে শিক্ষার্থীর বয়স প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত।

সরকারের শীর্ষ মহল সরকারি বা শুধু চাকরির উপর নির্ভরশীল না হয়ে স্ব-কর্মক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে দেশের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা এখনো সে অনুযায়ী প্রস্তুত নয় বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাই চাকরির প্রতিই ঝুঁকছে প্রায় সব শিক্ষিত তরুণ-তরুণী।

বিগত সময়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ বছর করার দাবি নিয়ে সরকারি দলের এমপি বা নীতিনির্ধারকদের কাছে আবেদন নিবেদন করেছেন। কিন্তু তাতে তেমন ফল এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। মাঝেমধ্যে তারা আন্দোলনও করেছেন।

গত ২০১২ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছরে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উপস্থাপিত হয় এবং অনেক সংসদ সদস্য চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার পক্ষে মতামত দেন। নবম সংসদ থেকে শুরু করে দশম সংসদের সর্বশেষ অধিবেশন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে অনেক সংসদ সদস্য প্রস্তাব দিয়ে আসছেন, দিচ্ছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর ২১ তম বৈঠকে চাকরিতে প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করার সুপারিশ করেছিলেন।

বর্তমান সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। দশম জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং মোঃ মনিরুল ইসলাম (মনির) আরো ১০ জন এমপির সমর্থনে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব পেশ করেন।

Post a Comment

0 Comments