Braking News

6/recent/ticker-posts

পে স্কেল: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার কী করবেন?

পত্রিকা পড়ে জানা যায়, ঘোষিত পে-স্কেল অনুযায়ী ডিপ্লোমাধারী ইঞ্জিনিয়ারগণ অবমূল্যায়নের শিকার। তার দাবি আদায়ে প্রাথমিক কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে উপ-সহকারী প্রকৌশলীদের বেতন ৯ম গ্রেডে নির্ধারণ এবং পর্যায়ক্রমে ৫, ৮, ১২, ১৫, ২০ ও ২৫ বছর চাকরি পূর্তিতে যথাক্রমে সহকারী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বা তাদের সমমানের পথে পদোন্নতির বিধান রাখা।
আমরা যতটুকু জানি, ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ উচ্চ মাধ্যমিক সমমান পর্যায়ের শিক্ষায় শিক্ষিত। আজকাল সরকারি চাকরির বাজারে অনেক স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ব্যক্তি ও ১৬ ও ১৭ নম্বর গ্রেডভুক্ত পদেও চাকরি করছেন অথচ ১৯৯৪ সালে তখনকার সরকার সকল উপ-সহকারী প্রকৌশলীর দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদায় ১০ম গ্রেডভুক্ত বলে ঘোষণা করেন। এর সূত্রে প্রায় সকল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সরকারি /আধাসরকারি বা বেসরকারি চাকরিতে প্রবেশ করছেন। অথচ ডিপ্লেমা ইঞ্জিনিয়ারের সমমান প্যারা-মেডিকেল বা ডিপ্লোমা কৃষিবিদগণ এখনও এ সুবিধা পাননি। তাহলে কি অন্যান্য ক্যাটাগরির সমমান সনদধারীদের প্রতি বৈষম্য করা হলো না? এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ কি সত্যিই বৈষম্যের অবসান চান? আসলে একটা সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরি গঠন বা প্রণয়ন করা প্রয়োজন, যা সহজে পরিবর্তন করা যাবে না। কারণ প্রত্যেকেই মেধা ও যোগ্যতা অনুসারে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে চাইবেন। কেউ তো এমএ, এমএসসি পাস করে আবার ডিপ্লোমা পড়তে চাইবেও না বা পারবেও না।
অন্যদিকে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও অনুরূপ সুনির্দিষ্ঠ বিধি প্রয়োজন, যেন কোন পদের ভবিষ্যৎ কী তা ভেবে চাকারিতে প্রবেশ করতে পারে। ২/৪ বছর পর পদের মর্যাদা/স্কেল পরিবর্তন হলে অন্য পদের লোকরা কি এতে প্রবেশ করার সুযোগ পাবেন? তাই সরকারের শীর্ষ মহলসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উদাত্ত আহ্বান শিক্ষাবিদগণের মতামত নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও মেধার মূল্যায়নপূর্বক সকল বিভাগের পদগুলোর মধ্যে বৈষম্যহীন বিধি প্রণয়ন করুণ। কেননা উচ্চ মাধ্যমিক সমমান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ যদি নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে প্রশ্ন থাকেÑ বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারগণ কী করবেন? কারিগরি শিক্ষার কিছু সুবিধা থাকা উচিত, কিন্তু আকাশ-পাতাল ব্যবধান তো মেনে নেয়া কঠিন।

Post a Comment

0 Comments